Posts

একক বাদনের সুরে স্মরণে পণ্ডিত ভি. জি. যোগ

Image
আনন্দমেলা ২০২৬ একক বাদনের সুরে স্মরণে পণ্ডিত ভি. জি. যোগ গত ১৬ই আগস্ট, ২০২৬, রবিবার  সন্ধ্যায় তাপস কুমার পাল একাডেমি অফ মিউজিক এন্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত পণ্ডিত ভি জি যোগ মঞ্চ (সুর্য সেন মঞ্চ, কলকাতা) এ “আনন্দমেলা” শিরোনামে এক একক বাদনের স্মরণীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি উচ্চাঙ্গসংগীতের  অনন্য অবদানের জন্য সম্মানিত পাদ্ম ভূষণ পণ্ডিত ভি. জি. যোগ মহাশয়কে স্মরণ করে আয়োজিত বিশেষ মঞ্চ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি প্রদীপ প্রজ্বলন ও ছোট একটি উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে সূচিত হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন করেন একাডেমির কার্যকরী প্রেসিডেন্ট ড. শঙ্কর চক্রবর্তী, ভাইস প্রেসিডেন্ট গায়ত্রী ভট্টাচার্যী এবং এডভোকেট প্রদীপ মজুমদার মহাশয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের পূর্বে পণ্ডিত ভি জি যোগের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। “আনন্দমেলা” একক বাদনের এই অনুষ্ঠানটি মূলত সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, তরুণ প্রতিভাকে উৎসাহ দেওয়া এবং বেহালার জগতে পণ্ডিত ভি জি যোগের অমর কৃতিত্ব স্মরণ করে তাদের কর্মধারা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই লক্ষ্য করেছিল। একাডেমির বক্তব্যে বলা হয়,...

নীল ষষ্ঠীতে কুমির

Image
নীল ষষ্ঠীতে কুমির তাপস কুমার পাল ©® বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির ক্যানভাসে, যেখানে ১২ মাসে ১৩টি পার্বণের উদযাপন হয়ে থাকে, নীল ষষ্ঠী বা নীল পূজা এক অনন্য ও বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন, ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষ ষষ্ঠী তিথিতে পালিত এই ব্রত মূলত মাতৃহৃদয়ের সন্তানপ্রেমের প্রকাশ—সন্তানদের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও কল্যাণ কামনায় মায়েরা নিষ্ঠার সাথে এটি পালন করেন। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে নীলাদেবীর আরাধনা, ব্রতকর্ম এবং ফলাহারের মাধ্যমে এই পূজা সম্পন্ন হয়, যা পুরাণে নীলাদেবীকে সন্তানরক্ষকারিণী হিসেবে বর্ণিত করেছে। তবে এই শাস্ত্রীয় রীতির সমান্তরালে বাংলার গ্রামীণ জনজীবনে এক অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় লৌকিক আচার প্রচলিত রয়েছে, যা 'কুমির পূজা' নামে পরিচিত। নদীমাতৃক বাংলায়, যেখানে গঙ্গা, পদ্মা, ধলেশ্বরী প্রভৃতি নদী জীবনের ধমনী, সেখানে জলজ প্রাণী কুমিরের প্রতি জনগণের ভয় ও ভক্তির দ্বৈত অনুভূতি ধর্মীয় আচারের রূপ নিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে কুমিরকে নদীর রক্ষক বা গ্রামের দেবতা হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে; কখনো তার ক্রোধপ্রশান্তির জন্য পূজা, কখনো সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে। নীল...

শিল্পের জন্য শিল্পী : আত্মহত্যা করতে পারেননি বিথোভেন

Image
শিল্পের জন্য শিল্পী : আত্মহত্যা করতে পারেননি বিথোভেন ©® পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের ইতিহাসে লুডভিগ ভ্যান বিথোভেন এক অমর নাম। তাঁর সৃষ্টির ভেতরে যেমন শক্তি, সংগ্রাম ও মানবিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল গভীর যন্ত্রণা, নিঃসঙ্গতা এবং মানসিক দ্বন্দ্বে ভরা। বিশেষত তাঁর ক্রমবর্ধমান বধিরতা তাঁকে এক সময় আত্মহত্যার চিন্তার দোরগোড়ায় নিয়ে যায়—কিন্তু সেই অন্ধকার থেকেই জন্ম নেয় এক নতুন সঙ্গীতধারা। বিথোভেন এক সময় আত্মহত্যার চিন্তা করতেন প্রধানত তাঁর ক্রমবর্ধমান বধিরতা এবং এর ফলে সৃজনশীল ও সামাজিক জীবনের ধ্বংসের ভয়ে। ১৭৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া কানের সমস্যা ১৮০২ সাল নাগাদ চরমে পৌঁছে, যখন তিনি হাইলিগেনস্ট্যাড্টে ছিলেন  হেইলিজেনস্ট্যাড  (Heiligenstadt) হলো অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ১৯তম জেলা ডবলিং-এর (Döbling) একটি এলাকা, যা ১৮৯২ সাল পর্যন্ত একটি স্বাধীন পৌরসভা ছিল। আর ডবলিং জেলার একটি মনোরম আবাসিক এলাকা, যেখানে আঙুর ক্ষেত এবং হাইক করার পথ রয়েছে। ©® বিথোভেনকে চিকিৎসকরা অকার্যকর ভুল চিকিৎসা দিয়ে, এবং মিথ্যা আশা দিয়েছিল ছয় বছর ধরে, কিন্তু কানের কোনো উন্নতি হয়নি। এতে ত...

ভারতীয় উচ্চাঙ্গসংগীতের সুরের মালা জপের মালার থেকেও ভীষণ কার্যকরী

Image
ভারতীয় উচ্চাঙ্গসংগীতের সুরের মালা জপের মালার থেকেও ভীষণ কার্যকরী - তাপস কুমার পাল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে যুগ যুগ ধরে শুধু শ্রোতার আনন্দবর্ধক নয়, মনোবিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। রাগরাগিণীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্বরায়ন বা ক্রমানুসারে সুর বিন্যাস মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে একাগ্রতা, শান্তি ও অন্তর্মুখিতার দিকে টানে—এ কারণেই কেউ কেউ সুরের মালা জপের মালা অপেক্ষা “আরও কার্যকরী” বলে গণ্য করেন। জপের মালা ও সুরের মালার মূল পার্থক্য হল:- জপের মালা ধর্মীয় মন্ত্র সংখ্যাগণন ও মনোনিবেশের সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রতিটি দানি প্রতিটি মন্ত্র জপের সঙ্গে বাঁধা থাকে। আর উচ্চাঙ্গ সংগীতের সুর (রাগ) প্রতিটি স্বর, বাদী–সম্বাদী সম্পর্ক ও লয় দিয়ে মনের তরঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই কিছু চিন্তা‑প্রবাহে একে সুরের মালা জপও বলে অভিহিত করা হয়—যা জপের মালার চেয়ে তাত্ত্বিকভাবে “আরও ভীষণ কার্যকরী” হিসেবে বর্ণিত হয়। কারণ আপনার হৃদয় ভালো থাকলেই তবেই জপ-তপ। এই বিষয় একটা প্রবাদ প্রণিধান যোগ্য, " জপ তপ যাই করো মরতে জানলে হয়"। সত্যিই তো সারাজীবন জপতপ ঠাকুরের নাম করে...