তবলার গভীর ভাবনায় এক সন্ধ্যা

পণ্ডিত পরিমল চক্রবর্তীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের হৃদ্যতা রয়েছে। দেখা হলেই আমি তাঁর গভীর শিল্পবোধকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। তাঁর সঙ্গীত ভাবনার সংস্পর্শে এসে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারা আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা।

গতকাল, ২৭ জুলাই ২০২৫, সেই আকাঙ্ক্ষা যেন পূর্ণতা পেল। সন্ধ্যা ৬:৩০টায় আমি পৌঁছে যাই যাদবপুরের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে, যেখানে আয়োজিত হয়েছিল বন্দিস তবলা একাডেমি-র গুরুপ্রণাম অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশক ছিলেন পরিমল দা — পণ্ডিত পরিমল চক্রবর্তী।

🎼
রাত ৮টায় তিনি তবলায় বসেন। পাশে হারমোনিয়ামে ছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য। সময় যেন থমকে গিয়েছিল। এক ঘণ্টার পরিবেশনা শেষ হয় রাত ৯টায় — কিন্তু শ্রোতারা যেন সেই শেষ মুহূর্তেও অপেক্ষায় ছিলেন, আবার যদি শুরু হয়! এমনই ছিল আবেগের তীব্রতা।

আমি জীবনে বহু খ্যাতনামা তবলা শিল্পীর পরিবেশনা শুনেছি — কখনো মঞ্চে, কখনো রেডিও বা ক্যাসেট, এলপি রেকর্ড, আবার কখনো ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। কিন্তু এই সন্ধ্যার মতো এত ভাবপূর্ণ তবলা পরিবেশনা খুব কমই দেখেছি।

তবলাও যে গভীর সঙ্গীতের এক নির্লিপ্ত বাহন হতে পারে, তা চোখের সামনে অনুভব না করলে বোঝা যায় না। গতকালের পরিবেশনায় ছিল শুধু দক্ষতা নয় — ছিল গভীর ভাবনা, গভীর সাধনা এবং সঙ্গীতচিন্তার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

👏
শ্রোতারা তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। মুহুমুহু করতালিতে তাঁকে সম্মান জানিয়েছেন।

আমি আজ আরও শুনতে চাই, বারবার শুনতে চাই — পরিমল চক্রবর্তীর তবলার সেই ভাবময় সুরধারা আমার মনে যেন আরও ক্ষুধা জাগিয়ে দিয়ে গেল।



Comments

Popular posts from this blog

একক বাদনের সুরে স্মরণে পণ্ডিত ভি. জি. যোগ

বৌদ্ধ মূর্তিতে কোঁকড়ানো চুলের রহস্য

টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার — কবিতা ও সঙ্গীত