বর্ষায় আবৃত্তি'র সুরে সজল এক সন্ধ্যা
বর্ষায় আবৃত্তি'র সুরে সজল এক সন্ধ্যা
প্রজ্ঞা সংস্কৃতি সংবাদ, কলকাতা:
সম্প্রতি "শ্রুতিবৃত্ত" ও "কৃষ্টির"যৌথ নিবেদন একঝাঁক নবীন প্রবীণ শিল্পী মিলে কলকাতার উইশডম ট্রী ক্যাফে (Wisdom Tree Cafe), তে অনুষ্ঠিত হলো "বর্ষামঙ্গল"। "বর্ষামঙ্গল" শুধুই ঋতুর বন্দনা নয়, এটি প্রকৃতির সাথে মানুষের আবেগময় সংলাপ। বাংলা সাহিত্যে ও সঙ্গীতে বর্ষার আগমন এক গভীর আবেগ ও অনুরাগের প্রতীক। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে প্রকৃতি যেমন নিজেকে নতুন রূপে সাজায়, তেমনি বাঙালির সংস্কৃতিতেও বর্ষা হয়ে ওঠে এক অনন্য অনুপ্রেরণা। এই আবেগঘন সময়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে “বর্ষামঙ্গল” – বৃষ্টির ঋতুকে নিবেদিত গান, কবিতা ও পাঠের এক অপূর্ব সংকলন। শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীতে এই ঋতু যেন এক চিরকালীন প্রেরণা।
এই অনুষ্ঠানে একঝাঁক শিল্পী তাঁদের কণ্ঠ, কাব্য ও সুরের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের শিল্পী শিঞ্জিনী মুখার্জি। তার কণ্ঠে এমন এক মাধুর্য রয়েছে, যা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। এদিন তিনি সূচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি "ওই-যে ঝড়ের মেঘের কোলে বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখাানি দোলে...।" এই গানটি প্রকৃতির উদ্দাম রূপ, তার অপরূপ সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত শক্তির এক অনন্য প্রকাশ – যা বাংলার বর্ষার আবহে এক নান্দনিক দ্যোতনা তৈরি করে।
ছবি - শিঞ্জিনী মুখার্জি
এরপর শিঞ্জিনী পরিবেশন করেন আরতি মুখার্জীর কালজয়ী গান "টাপুর টুপুর সারা দুপুর নূপুর বাজায় কে", এই গান শিশুসুলভ সরলতা, প্রেমের চঞ্চলতা এবং সুরের মাধুর্য মিলে এই গানটি শ্রোতাদের মনে চিরকালীন স্থান করে নিয়েছে। শিঞ্জিনীর কণ্ঠে এই দুই গান যেন নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। তার গানে যে পরিপক্বতা ও আবেগের ছোঁয়া ছিল, তা মুহুমুহু করতালির মধ্যে দিয়ে শ্রোতারা প্রকাশ করেছেন। এই সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুতেই এক তৃপ্তিময় আবহ তৈরি হয়, যা বাকি সময়টিকে সুরের মাধুর্যে ভরিয়ে তোলে।
ছবি - সোমা বসু
অনুষ্ঠানে যাঁদের পরিবেশনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সোমা বসু। তিনি আবৃত্তি করেন কবি আরণ্যক বসুর লেখা "বৃষ্টি আসছে বৃষ্টি...", যার বর্ণনায় বর্ষার আগমনী বার্তা প্রাণ পায়।
ছবি - কাকলি দত্ত
এরপর কাকলি দত্ত পরিবেশন করেন কবি গৌতম মণ্ডলের লেখা "মেঘ বৃষ্টির বিয়ে...", যেখানে বৃষ্টির অলৌকিক প্রেম কল্পনার রঙে মেশে।
ছবি - পারমিতা চক্রবর্তী
পারমিতা চক্রবর্তী তাঁর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশন করেন বেনারসের কাজরি ও ঠুমরি গান, যা অনুষ্ঠানে এক অনন্য শাস্ত্রীয় আবহ তৈরি করে।
ছবি - মৌসুমি আদক
মৌসুমি আদক আবৃত্তি করেন অংশুমান করের "বর্ষা এক ম্যাজিক..." — এক কাব্যিক বর্ষার ছোঁয়ায় ভরা মুহূর্ত, যা দর্শকদের অন্তরে অনুরণন তোলে।
ছবি - দেবলিনা বিশ্বাস
দেবলিনা বিশ্বাস কবি জয় গোস্বামীর "মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" আবৃত্তি করে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেন। তাঁর আবৃত্তিতে যেন সত্যিই রূপকথার জাদু ফুটে ওঠে।
ছবি - কুমকুম বিশ্বাস
এরপর কুমকুম বিশ্বাস পরিবেশন করেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর "বৃষ্টির পর...", যা যেন বৃষ্টির পরে ভেজা বিকেলের নিস্তব্ধতায় মন ডুবিয়ে দেয়।
ছবি - শিব শঙ্কর মাঝি
শিব শঙ্কর মাঝি আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "অসম্ভব",।
ছবি - সন্দীপ গুহ ও সমিতা দাস
সন্দীপ গুহ"লিপিকা" কাব্যগ্রন্থ থেকে "মেঘদূত" অংশ। পরে সমিতা দাস একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত "আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার..."। তাঁর কণ্ঠে গানটি যেন বর্ষার গভীরতাকে আরও গভীর করে তোলে। অনুষ্ঠান শেষ হয় পারমিতার একটি গান দিয়ে এদিনের বর্ষামঙ্গলের পরিসমাপ্তি হয়। যখন বাইরে সূর্য অস্ত যাচ্ছিল, শহর ভিজছিল শ্রাবণের ভারী বৃষ্টিতে— তখন এই আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা সত্যিই হয়ে উঠেছিল এক সজল অনুভবের সমারোহ। বর্ষার আবেশে মোড়া এক সন্ধ্যায় আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় শ্রোতারা মুগ্ধ হন একের পর এক শিল্পীর অভিনব উপস্থাপনায়।— প্রত্যেকে নিজেদের স্বকীয়তাকে তুলে ধরেন কাব্য ও সুরের মাধ্যমে।
ছবি শুভদীপ চক্রবর্তী ও সায়নী বন্দ্যোপাধ্যায়
সামগ্রিক পরিচালনা করেন – বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শুভদীপ চক্রবর্তী ও সায়নী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মায়াবী যাদুকণ্ঠে বিমোহিত হন দর্শককুল। বর্ষার সন্ধ্যায় কবিতা ও সুরের এই মেলবন্ধন দীর্ঘদিন মনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুরাগীদের।
— প্রতিবেদনে, তাপস কুমার পাল
প্রজ্ঞা সংস্কৃতি সংবাদ, কলকাতা:
সম্প্রতি "শ্রুতিবৃত্ত" ও "কৃষ্টির"যৌথ নিবেদন একঝাঁক নবীন প্রবীণ শিল্পী মিলে কলকাতার উইশডম ট্রী ক্যাফে (Wisdom Tree Cafe), তে অনুষ্ঠিত হলো "বর্ষামঙ্গল"। "বর্ষামঙ্গল" শুধুই ঋতুর বন্দনা নয়, এটি প্রকৃতির সাথে মানুষের আবেগময় সংলাপ। বাংলা সাহিত্যে ও সঙ্গীতে বর্ষার আগমন এক গভীর আবেগ ও অনুরাগের প্রতীক। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে প্রকৃতি যেমন নিজেকে নতুন রূপে সাজায়, তেমনি বাঙালির সংস্কৃতিতেও বর্ষা হয়ে ওঠে এক অনন্য অনুপ্রেরণা। এই আবেগঘন সময়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে “বর্ষামঙ্গল” – বৃষ্টির ঋতুকে নিবেদিত গান, কবিতা ও পাঠের এক অপূর্ব সংকলন। শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীতে এই ঋতু যেন এক চিরকালীন প্রেরণা।
এই অনুষ্ঠানে একঝাঁক শিল্পী তাঁদের কণ্ঠ, কাব্য ও সুরের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের শিল্পী শিঞ্জিনী মুখার্জি। তার কণ্ঠে এমন এক মাধুর্য রয়েছে, যা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। এদিন তিনি সূচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি "ওই-যে ঝড়ের মেঘের কোলে বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখাানি দোলে...।" এই গানটি প্রকৃতির উদ্দাম রূপ, তার অপরূপ সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত শক্তির এক অনন্য প্রকাশ – যা বাংলার বর্ষার আবহে এক নান্দনিক দ্যোতনা তৈরি করে।
ছবি - শিঞ্জিনী মুখার্জি
এরপর শিঞ্জিনী পরিবেশন করেন আরতি মুখার্জীর কালজয়ী গান "টাপুর টুপুর সারা দুপুর নূপুর বাজায় কে", এই গান শিশুসুলভ সরলতা, প্রেমের চঞ্চলতা এবং সুরের মাধুর্য মিলে এই গানটি শ্রোতাদের মনে চিরকালীন স্থান করে নিয়েছে। শিঞ্জিনীর কণ্ঠে এই দুই গান যেন নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। তার গানে যে পরিপক্বতা ও আবেগের ছোঁয়া ছিল, তা মুহুমুহু করতালির মধ্যে দিয়ে শ্রোতারা প্রকাশ করেছেন। এই সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুতেই এক তৃপ্তিময় আবহ তৈরি হয়, যা বাকি সময়টিকে সুরের মাধুর্যে ভরিয়ে তোলে।
ছবি - সোমা বসু
অনুষ্ঠানে যাঁদের পরিবেশনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সোমা বসু। তিনি আবৃত্তি করেন কবি আরণ্যক বসুর লেখা "বৃষ্টি আসছে বৃষ্টি...", যার বর্ণনায় বর্ষার আগমনী বার্তা প্রাণ পায়।
ছবি - কাকলি দত্ত
এরপর কাকলি দত্ত পরিবেশন করেন কবি গৌতম মণ্ডলের লেখা "মেঘ বৃষ্টির বিয়ে...", যেখানে বৃষ্টির অলৌকিক প্রেম কল্পনার রঙে মেশে।
ছবি - পারমিতা চক্রবর্তী
পারমিতা চক্রবর্তী তাঁর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশন করেন বেনারসের কাজরি ও ঠুমরি গান, যা অনুষ্ঠানে এক অনন্য শাস্ত্রীয় আবহ তৈরি করে।
ছবি - মৌসুমি আদক
মৌসুমি আদক আবৃত্তি করেন অংশুমান করের "বর্ষা এক ম্যাজিক..." — এক কাব্যিক বর্ষার ছোঁয়ায় ভরা মুহূর্ত, যা দর্শকদের অন্তরে অনুরণন তোলে।
ছবি - দেবলিনা বিশ্বাস
দেবলিনা বিশ্বাস কবি জয় গোস্বামীর "মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" আবৃত্তি করে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেন। তাঁর আবৃত্তিতে যেন সত্যিই রূপকথার জাদু ফুটে ওঠে।
ছবি - কুমকুম বিশ্বাস
এরপর কুমকুম বিশ্বাস পরিবেশন করেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর "বৃষ্টির পর...", যা যেন বৃষ্টির পরে ভেজা বিকেলের নিস্তব্ধতায় মন ডুবিয়ে দেয়।
ছবি - শিব শঙ্কর মাঝি
শিব শঙ্কর মাঝি আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "অসম্ভব",।
ছবি - সন্দীপ গুহ ও সমিতা দাস
সন্দীপ গুহ"লিপিকা" কাব্যগ্রন্থ থেকে "মেঘদূত" অংশ। পরে সমিতা দাস একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত "আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার..."। তাঁর কণ্ঠে গানটি যেন বর্ষার গভীরতাকে আরও গভীর করে তোলে। অনুষ্ঠান শেষ হয় পারমিতার একটি গান দিয়ে এদিনের বর্ষামঙ্গলের পরিসমাপ্তি হয়। যখন বাইরে সূর্য অস্ত যাচ্ছিল, শহর ভিজছিল শ্রাবণের ভারী বৃষ্টিতে— তখন এই আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা সত্যিই হয়ে উঠেছিল এক সজল অনুভবের সমারোহ। বর্ষার আবেশে মোড়া এক সন্ধ্যায় আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় শ্রোতারা মুগ্ধ হন একের পর এক শিল্পীর অভিনব উপস্থাপনায়।— প্রত্যেকে নিজেদের স্বকীয়তাকে তুলে ধরেন কাব্য ও সুরের মাধ্যমে।
ছবি শুভদীপ চক্রবর্তী ও সায়নী বন্দ্যোপাধ্যায়
সামগ্রিক পরিচালনা করেন – বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শুভদীপ চক্রবর্তী ও সায়নী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মায়াবী যাদুকণ্ঠে বিমোহিত হন দর্শককুল। বর্ষার সন্ধ্যায় কবিতা ও সুরের এই মেলবন্ধন দীর্ঘদিন মনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুরাগীদের।
— প্রতিবেদনে, তাপস কুমার পাল
Comments