সুরাঙ্গন: সুরের অন্তর্জগতে এক নিবিড় সন্ধান
📍 অনুষ্ঠানভূমি
গত ২১শে জুন, ২০২৫, উত্তরপাড়া গণভবনে অনুষ্ঠিত হয় এক হৃদয়স্পর্শী সঙ্গীত মহোৎসব। এটি শুধুমাত্র একটি পরিবেশনা নয়, বরং হয়ে ওঠে এক পরিপূর্ণ সংগীতানুভবের সন্ধ্যা, যা দর্শক-শ্রোতাদের মনে গেঁথে থাকে দীর্ঘকাল।
‘সুরাঙ্গন’ – এই নামেই যেন লুকিয়ে ছিল এক গোপন আত্মানুসন্ধানের দরজা, যেটি সংগীতের মাধ্যমে খুলে গেল এক উন্মোচিত অন্তর্জগতের দিকে।
🌼 সূচনা: শ্রদ্ধার নিবেদন
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় শক্তি ভূষণ সেনগুপ্ত-র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এই পর্ব যেন এক নিঃশব্দ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, যা পুরো অনুষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয় এক আধ্যাত্মিক আবহ।
ছবি :- সুরাঙ্গন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় শক্তি ভূষণ সেনগুপ্ত।
🎼 নবীন সুরের অনুরণন: প্রথম পর্ব
সংগঠনের ছাত্রীরা শিক্ষিকা বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য-র পরিচালনায় রাগসঙ্গীত পরিবেশন করেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে।
🎵 সমবেত রাগ বৈরাগী — সুদৃশা সেনগুপ্ত, সীমা ও আরাত্রিকা।
🎵 রাগ মূলতানী (ঝাপতাল ও তিনতাল) — সুদৃশা সেনগুপ্ত।
🎵 রাগ পটদীপ — তনিসকা, ত্রিপরণা, আদৃতা ও তৃষা।
🎵 রাগ পুরিয়াধানেশ্রী — সাহানা দাসগুপ্ত।
🎵 রাগ ইমন কল্যাণ — শ্রিয়া, শাওন, আয়ুসী ও বিকোশিত।
🎵 রাগ বেহাগ — অঙ্কিতা।
🎵 রাগ দেশ — জয়িতা ও ঈপ্সিতা।
প্রতিটি পরিবেশনায় নবীন শিল্পীদের নিষ্ঠা, রেওয়াজ ও শিক্ষিকার সুচারু দীক্ষার প্রতিফলন ছিল লক্ষ্যণীয়।
ছবি :- সুদৃশা সেনগুপ্ত তবলা সহযোগিতায় অধ্যাপক সব্যসাচী সেনগুপ্ত।
এই পর্বের সমগ্র অনুষ্ঠানে তবলায় সহযোগিতা করেন এক ঝাঁক নবীন প্রবীণ তবলাবাদক তাদের মধ্যে নাম করতে হয়- সুমন্ত্র, প্রবীর ধারা, প্রসূন, শুভ্রনীল এবং অধ্যাপক সব্যসাচী সেনগুপ্ত।
🎵 গুরুস্বরের অন্তরঙ্গতা: দ্বিতীয় পর্ব
ছবি :- বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য এবং তবলা সহযোগিতায় সব্যসাচী সেনগুপ্ত
এই পর্বে শ্রোতারা শুনলেন বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্যের পরিবেশনায় রাগ নন্দ। তার পরিপক্ক গায়কি এক গভীর আবেগ ছড়িয়ে দেয় শ্রোতামনে। শ্রোতাদের অনুরোধে পরিবেশিত হয় একটি দীপচন্দী তালে সংক্ষিপ্ত কম্পোজিশন। তাঁকে তবলায় সঙ্গত করেন অধ্যাপক শ্রী সব্যসাচী সেনগুপ্ত, যাঁর মিতভাষী অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ সঙ্গত গানকে করে তোলে আরও বর্ণিল।
ছবি :- বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য
🌧 সমাপ্তি: মেঘে ঢাকা সুরস্নান
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
সে দিনের অনুষ্ঠানের শেষ পর্বটি হয়ে উঠেছিল এক অপরূপ শ্রবণানুভূতির উৎস। পরিবেশিত হয় রাগ মেঘ, যার আবরণে ছায়াপাত করে শ্রাবণের বিকেল। সন্তুরে পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি এবং তবলায় পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য তাঁদের যুগল পরিবেশনায় উপহার দেন এক অনন্য সংগীত অভিজ্ঞান।
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
সন্তুরের কোমল ছোঁয়ায় রাগ মেঘ যেন অল্প অল্প করে গড়িয়ে পড়ছিল শ্রোতার মনের অলিন্দে, আর তবলায় সেই সুরের স্পন্দন প্রতিফলিত হচ্ছিল নিবিড় অনুভবের ছায়ারূপে। তাঁদের যন্ত্রসংলাপ ছিল যেন ধ্বনির গভীর ধ্যানে ডুব দেওয়া—যেখানে শ্রোতা হারিয়ে যায় এক পরম তৃপ্তির জগতে। দু'জন গুণী শিল্পীর এই যুগলবন্দি শ্রোতাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক সুরভরা মেঘময় সন্ধ্যায়—যেখানে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে শুধুই সুধারস উপহার দেয়। নিঃসন্দেহে, এটি ছিল অনুষ্ঠানের সংগীতচূড়া—এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের পূর্ণ প্রকাশ, যার রেশ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
🎙️সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষ ও অনুভবপূর্ণ সঞ্চালনার মাধ্যমে প্রাণবন্ত করে তোলেন অনির্বাণ দাশগুপ্ত। তাঁর পরিমিত ভাষা, স্পষ্ট উচ্চারণ ও সংগীতবোধ অনুষ্ঠানকে এক সুচারু গতি ও আবেগময়তা প্রদান করেন।
🪔 ‘সুরাঙ্গন’ শুধুই একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর নয়, এটি এক ভবিষ্যতের স্বপ্নের বীজরোপণ। এই সন্ধ্যা ছিল নির্ভেজাল সংগীতের আরাধনা — যেখানে শ্রোতা ও শিল্পী মিলে একাত্ম হয়ে উঠেছিলেন সুরের আলিঙ্গনে।
সঙ্গীত যে কত গভীরভাবে আমাদের মনোজগত স্পর্শ করতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল এই অনন্য অনুষ্ঠান।
🖋️প্রতিবেদন- তাপস কুমার পাল।
গত ২১শে জুন, ২০২৫, উত্তরপাড়া গণভবনে অনুষ্ঠিত হয় এক হৃদয়স্পর্শী সঙ্গীত মহোৎসব। এটি শুধুমাত্র একটি পরিবেশনা নয়, বরং হয়ে ওঠে এক পরিপূর্ণ সংগীতানুভবের সন্ধ্যা, যা দর্শক-শ্রোতাদের মনে গেঁথে থাকে দীর্ঘকাল।
‘সুরাঙ্গন’ – এই নামেই যেন লুকিয়ে ছিল এক গোপন আত্মানুসন্ধানের দরজা, যেটি সংগীতের মাধ্যমে খুলে গেল এক উন্মোচিত অন্তর্জগতের দিকে।
🌼 সূচনা: শ্রদ্ধার নিবেদন
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় শক্তি ভূষণ সেনগুপ্ত-র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এই পর্ব যেন এক নিঃশব্দ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, যা পুরো অনুষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয় এক আধ্যাত্মিক আবহ।
ছবি :- সুরাঙ্গন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় শক্তি ভূষণ সেনগুপ্ত।
🎼 নবীন সুরের অনুরণন: প্রথম পর্ব
সংগঠনের ছাত্রীরা শিক্ষিকা বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য-র পরিচালনায় রাগসঙ্গীত পরিবেশন করেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে।
🎵 সমবেত রাগ বৈরাগী — সুদৃশা সেনগুপ্ত, সীমা ও আরাত্রিকা।
🎵 রাগ মূলতানী (ঝাপতাল ও তিনতাল) — সুদৃশা সেনগুপ্ত।
🎵 রাগ পটদীপ — তনিসকা, ত্রিপরণা, আদৃতা ও তৃষা।
🎵 রাগ পুরিয়াধানেশ্রী — সাহানা দাসগুপ্ত।
🎵 রাগ ইমন কল্যাণ — শ্রিয়া, শাওন, আয়ুসী ও বিকোশিত।
🎵 রাগ বেহাগ — অঙ্কিতা।
🎵 রাগ দেশ — জয়িতা ও ঈপ্সিতা।
প্রতিটি পরিবেশনায় নবীন শিল্পীদের নিষ্ঠা, রেওয়াজ ও শিক্ষিকার সুচারু দীক্ষার প্রতিফলন ছিল লক্ষ্যণীয়।
ছবি :- সুদৃশা সেনগুপ্ত তবলা সহযোগিতায় অধ্যাপক সব্যসাচী সেনগুপ্ত।
এই পর্বের সমগ্র অনুষ্ঠানে তবলায় সহযোগিতা করেন এক ঝাঁক নবীন প্রবীণ তবলাবাদক তাদের মধ্যে নাম করতে হয়- সুমন্ত্র, প্রবীর ধারা, প্রসূন, শুভ্রনীল এবং অধ্যাপক সব্যসাচী সেনগুপ্ত।
🎵 গুরুস্বরের অন্তরঙ্গতা: দ্বিতীয় পর্ব
ছবি :- বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য এবং তবলা সহযোগিতায় সব্যসাচী সেনগুপ্ত
এই পর্বে শ্রোতারা শুনলেন বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্যের পরিবেশনায় রাগ নন্দ। তার পরিপক্ক গায়কি এক গভীর আবেগ ছড়িয়ে দেয় শ্রোতামনে। শ্রোতাদের অনুরোধে পরিবেশিত হয় একটি দীপচন্দী তালে সংক্ষিপ্ত কম্পোজিশন। তাঁকে তবলায় সঙ্গত করেন অধ্যাপক শ্রী সব্যসাচী সেনগুপ্ত, যাঁর মিতভাষী অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ সঙ্গত গানকে করে তোলে আরও বর্ণিল।
ছবি :- বিদুষী মৌসুমী সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য
🌧 সমাপ্তি: মেঘে ঢাকা সুরস্নান
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
সে দিনের অনুষ্ঠানের শেষ পর্বটি হয়ে উঠেছিল এক অপরূপ শ্রবণানুভূতির উৎস। পরিবেশিত হয় রাগ মেঘ, যার আবরণে ছায়াপাত করে শ্রাবণের বিকেল। সন্তুরে পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি এবং তবলায় পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য তাঁদের যুগল পরিবেশনায় উপহার দেন এক অনন্য সংগীত অভিজ্ঞান।
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
সন্তুরের কোমল ছোঁয়ায় রাগ মেঘ যেন অল্প অল্প করে গড়িয়ে পড়ছিল শ্রোতার মনের অলিন্দে, আর তবলায় সেই সুরের স্পন্দন প্রতিফলিত হচ্ছিল নিবিড় অনুভবের ছায়ারূপে। তাঁদের যন্ত্রসংলাপ ছিল যেন ধ্বনির গভীর ধ্যানে ডুব দেওয়া—যেখানে শ্রোতা হারিয়ে যায় এক পরম তৃপ্তির জগতে। দু'জন গুণী শিল্পীর এই যুগলবন্দি শ্রোতাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক সুরভরা মেঘময় সন্ধ্যায়—যেখানে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে শুধুই সুধারস উপহার দেয়। নিঃসন্দেহে, এটি ছিল অনুষ্ঠানের সংগীতচূড়া—এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের পূর্ণ প্রকাশ, যার রেশ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।
ছবি - পণ্ডিত সন্দীপ চ্যাটার্জি (সন্তুর) ও পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য (তবলা)
🎙️সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষ ও অনুভবপূর্ণ সঞ্চালনার মাধ্যমে প্রাণবন্ত করে তোলেন অনির্বাণ দাশগুপ্ত। তাঁর পরিমিত ভাষা, স্পষ্ট উচ্চারণ ও সংগীতবোধ অনুষ্ঠানকে এক সুচারু গতি ও আবেগময়তা প্রদান করেন।
🪔 ‘সুরাঙ্গন’ শুধুই একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর নয়, এটি এক ভবিষ্যতের স্বপ্নের বীজরোপণ। এই সন্ধ্যা ছিল নির্ভেজাল সংগীতের আরাধনা — যেখানে শ্রোতা ও শিল্পী মিলে একাত্ম হয়ে উঠেছিলেন সুরের আলিঙ্গনে।
সঙ্গীত যে কত গভীরভাবে আমাদের মনোজগত স্পর্শ করতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল এই অনন্য অনুষ্ঠান।
🖋️প্রতিবেদন- তাপস কুমার পাল।
Comments