চোঙদার : গ্রামবাংলার বিস্মৃত পেশা, পদবি থেকে জমিদারি
চোঙদার : গ্রামবাংলার বিস্মৃত পেশা, পদবি থেকে জমিদারি
প্রতিবেদনে - তাপস কুমার পাল
এক সময়ের গ্রামবাংলা ছিল সরল, আত্মনির্ভর , আর সামাজিক বন্ধনে গাঁথা। তখন সংবাদ প্রচারের কোনো আধুনিক মাধ্যম ছিল না। গ্রামের খবর, জমিদারের আদেশ কিংবা আদালতের নির্দেশ প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হতো "ঢ্যাঁড়া" ও "চোঁঙ" বাদ্যযন্ত্র। যারা ঢ্যাঁড়া পেটাতেন তাঁদের বলা হতো "ঢ্যাঁড়াদার" আর যারা চোঙে ফুঁ দিতেন তাদের বলা হতো "চোঙদার"। এক অর্থে তারা ছিলেন গ্রামীণ সমাজের সরকারি “ঘোষক” বা বার্তাবাহক।
ঢ্যাঁড়া পেটানোর রেওয়াজ
ঢ্যাঁড়া ছিল একপ্রকার ছোট গোলাকার ঢাক বা ড্রাম, কাঠের ফ্রেমে চামড়া টানানো থাকত। গ্রামের মোড়ে, হাটে বা পুকুর ঘাটে যেখানে অনেক লোক থাকে সেই সব জায়গায় দাঁড়িয়ে ঢ্যাঁড়াদার জোরে জোরে ঘোষণা করতেন—
“শুনে রাখো,... শুনে রাখো,.... কাল সকালে.... জমিদারের খাজনা দিতে হবে!”......
এইভাবেই সরকারি নির্দেশনামা বা জমিজমা সংক্রান্ত খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ত।
চোঙ ফুঁকে খবর দেওয়া
"চোঙ" ছিল বাঁশ বা ধাতব নল, যার মধ্যে ফুঁ দিয়ে আওয়াজ তোলা হতো। চোঁঙ, "শিং"-এর মতো দেখতে বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়, গ্রামবাংলায় "সিঙা" বা "শিঙ্গা" ফোঁকার চল বহুযুগ থেকে ছিল। অসম রাজ্যে বলে 'পেঁপা'। এই চোঙ এর সাহায্যে দূরবর্তী এলাকায় সংবাদ পৌঁছানোর কাজে চোঙদাররা ছিলেন অপরিহার্য। নদীবিধৌত বাংলায় তাঁদের চোঁঙের আওয়াজ ভেসে যেত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
পেশা থেকে পদবিতে রূপান্তর
সময়ের সঙ্গে এই পেশাগুলি পরিবারভিত্তিক হয়ে ওঠে। বহু প্রজন্ম ধরে এই দায়িত্ব পালন করতে করতে “চোঙদার” ও “ঢ্যাঁড়াদার” নামই তাঁদের পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। আজও বাংলার নানা অঞ্চলে এই পদবি পাওয়া যায়, যা সেই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ঐতিহাসিক স্মারক। চোংদার পদবী এসেছে বাঁশের চোঙে রাজস্ব বা খাজনা পাঠানোর ঐতিহাসিক রীতি থেকে; স্থানীয় নাম যশ ও অন্যতম জমিদারি নিদর্শন ছিল বংশের মধ্যে। সমাজে তাঁদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ঢ্যাঁড়াদার ও চোঙদাররা ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তাঁদের কণ্ঠেই গ্রামবাসী শুনত খবর, আদেশ, কিংবা আহ্বান। তাঁরা ছিলেন এক অর্থে সংবাদ মাধ্যমের প্রাচীন প্রতিনিধি।
গুসকরার চোংদার জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোতে নীল সরস্বতী পুজো
বাংলার মাটিতে দেবী উপাসনার রূপ যত বৈচিত্র্যময়, তার মধ্যেও গুসকরার চোংদার বাড়ির দশমী পুজো এক অনন্য অধ্যায়। এখানে দেবী সরস্বতী আরাধিতা হন তান্ত্রিক রূপ "নীল সরস্বতী" হিসেবে — জ্ঞান, মৃত্যু ও শক্তির এক অদ্ভুত সমন্বয়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার চোংদার পরিবারের শিকড় চট্টগ্রামে। প্রাচীন কালে তাঁরা মূলত "চট্টোপাধ্যায় পদবীর" ছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনে তাঁদেরকে গুসকরায় ডেকে আনা হয়, পরে বর্ধমান রাজার অনুগ্রহে তাঁরা জমিদারি ও ভূমি-সম্পত্তির অধিকার লাভ করেন। সেই সময় গুসকরাই ছিল বর্ধমান রাজ্য ও কোম্পানির এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। পরবর্তীতে এখানেই চোংদার পরিবার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে আসে। চোংদার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় শিক্ষা, মন্দির সংস্কার এবং দরিদ্রদের সাহায্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাঁদের ধর্মভীরু ও শিক্ষানুরাগী মনোভাব গুসকরার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
চোংদার পরিবারের বিশিষ্ট পুরুষ ছিলেন জমিদার চতুর্ভুজ চোংদার, যিনি প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষ ও সম্মানিত। তাঁর সময়েই সূচনা হয় "তান্ত্রিক নীল সরস্বতী পুজোর"।
নীল সরস্বতী: তন্ত্র ও জ্ঞানের মিলন
বেদপুরাণে সরস্বতী জ্ঞানের দেবী, কিন্তু তন্ত্রশাস্ত্রে তিনি রূপ নেন দশমহাবিদ্যার অন্তর্গত “নীল সরস্বতী” রূপে — ভয়ংকর অথচ মঙ্গলময় শক্তির প্রতীক। চোংদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় দেবী পূজিতা হন তান্ত্রিক রূপে। এবং সরস্বতী দেবীর মাথায় কোনো মুকুট থাকে না; এখানে হিন্দু শাস্ত্রীয় আচার নয়, শাক্ত মতে পাঠ ও উপাসনা হয়।
মৃত্যুর পর প্রথার রূপান্তর
জনশ্রুতি আছে — কোনো এক দশমীর দিন পুজো সমাপ্তির পর জমিদার চতুর্ভুজ চোংদার আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। একই দিনে প্রয়াত হন তাঁর পত্নী বিদ্যাধরী দেবী। পরিবার ও স্থানীয় মানুষ এই ঘটনাকে দেবীর লীলা বলে মনে করেন। সেই সময় থেকেই দশমীর দিনে শুরু হয় "শ্রাদ্ধ ও শান্তি অনুষ্ঠান"। দেবীর বিসর্জন হয় না; বরং আবাহন মন্ত্রে তাঁকে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শক্তির প্রতীক: কামান থেকে বন্দুক
অতীতে পুজোর সূচনা হতো কামান দেগে—যা ছিল দেবী শক্তির জাগরণের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কামানের পরিবর্তে আজও ঐতিহ্য রক্ষা করা হচ্ছে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পুজো সূচনার মাধ্যমে। এই প্রথা চোংদার পরিবারের জমিদারি ঐতিহ্য ও বংশের শক্তির প্রতীক হিসেবে আজও টিকে আছে।
গুসকরার জমিদার বাড়িতে তান্ত্রিক সরস্বতীর বিরল আরাধনা
দশমহাবিদ্যার মধ্যে নীল সরস্বতীর পূজা আজও বাংলার তান্ত্রিক পরম্পরায় বিরল। এখানে দেবী একাধারে "ভয়ংকর ও মঙ্গলময়, জ্ঞান ও মৃত্যু" — উভয়েরই প্রতীক। চোংদার বাড়ির দশমী পুজো তাই কেবল ধর্মীয় নয়, এটি এক তান্ত্রিক উত্তরাধিকার — যেখানে মৃত্যু ও জীবনের সীমানা মিলিয়ে যায় এক চেতনায়।
বর্তমানে চোংদার পরিবারের বংশধররা এই পুজোকে কেবল পারিবারিক নয়, বরং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা হিসেবে পালন করছেন। প্রতিবছর আশপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ আসেন এই বিরল প্রথা ও তান্ত্রিক আচার প্রত্যক্ষ করতে। গুসকরার চোংদার বাড়ির দশমী পুজো এক অনন্য ঐতিহ্য — যেখানে পুজো, শ্রাদ্ধ, ইতিহাস ও তন্ত্র একাকার হয়ে যায়। এটি শুধু একটি পারিবারিক পূজা নয়, বরং বাংলার জমিদারি সংস্কৃতি,
পারিবারিক বেদনা, ও তান্ত্রিক উত্তরাধিকার — এক জীবন্ত “ঐতিহ্যের দলিল”।
©® প্রতিবেদনে - তাপস কুমার পাল।
ছবি - রুদ্র নারায়ণ।
এক সময়ের গ্রামবাংলা ছিল সরল, আত্মনির্ভর , আর সামাজিক বন্ধনে গাঁথা। তখন সংবাদ প্রচারের কোনো আধুনিক মাধ্যম ছিল না। গ্রামের খবর, জমিদারের আদেশ কিংবা আদালতের নির্দেশ প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হতো "ঢ্যাঁড়া" ও "চোঁঙ" বাদ্যযন্ত্র। যারা ঢ্যাঁড়া পেটাতেন তাঁদের বলা হতো "ঢ্যাঁড়াদার" আর যারা চোঙে ফুঁ দিতেন তাদের বলা হতো "চোঙদার"। এক অর্থে তারা ছিলেন গ্রামীণ সমাজের সরকারি “ঘোষক” বা বার্তাবাহক।
ঢ্যাঁড়া পেটানোর রেওয়াজ
ঢ্যাঁড়া ছিল একপ্রকার ছোট গোলাকার ঢাক বা ড্রাম, কাঠের ফ্রেমে চামড়া টানানো থাকত। গ্রামের মোড়ে, হাটে বা পুকুর ঘাটে যেখানে অনেক লোক থাকে সেই সব জায়গায় দাঁড়িয়ে ঢ্যাঁড়াদার জোরে জোরে ঘোষণা করতেন—
“শুনে রাখো,... শুনে রাখো,.... কাল সকালে.... জমিদারের খাজনা দিতে হবে!”......
এইভাবেই সরকারি নির্দেশনামা বা জমিজমা সংক্রান্ত খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ত।
চোঙ ফুঁকে খবর দেওয়া
"চোঙ" ছিল বাঁশ বা ধাতব নল, যার মধ্যে ফুঁ দিয়ে আওয়াজ তোলা হতো। চোঁঙ, "শিং"-এর মতো দেখতে বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়, গ্রামবাংলায় "সিঙা" বা "শিঙ্গা" ফোঁকার চল বহুযুগ থেকে ছিল। অসম রাজ্যে বলে 'পেঁপা'। এই চোঙ এর সাহায্যে দূরবর্তী এলাকায় সংবাদ পৌঁছানোর কাজে চোঙদাররা ছিলেন অপরিহার্য। নদীবিধৌত বাংলায় তাঁদের চোঁঙের আওয়াজ ভেসে যেত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
পেশা থেকে পদবিতে রূপান্তর
সময়ের সঙ্গে এই পেশাগুলি পরিবারভিত্তিক হয়ে ওঠে। বহু প্রজন্ম ধরে এই দায়িত্ব পালন করতে করতে “চোঙদার” ও “ঢ্যাঁড়াদার” নামই তাঁদের পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। আজও বাংলার নানা অঞ্চলে এই পদবি পাওয়া যায়, যা সেই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ঐতিহাসিক স্মারক। চোংদার পদবী এসেছে বাঁশের চোঙে রাজস্ব বা খাজনা পাঠানোর ঐতিহাসিক রীতি থেকে; স্থানীয় নাম যশ ও অন্যতম জমিদারি নিদর্শন ছিল বংশের মধ্যে। সমাজে তাঁদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ঢ্যাঁড়াদার ও চোঙদাররা ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তাঁদের কণ্ঠেই গ্রামবাসী শুনত খবর, আদেশ, কিংবা আহ্বান। তাঁরা ছিলেন এক অর্থে সংবাদ মাধ্যমের প্রাচীন প্রতিনিধি।
গুসকরার চোংদার জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোতে নীল সরস্বতী পুজো
বাংলার মাটিতে দেবী উপাসনার রূপ যত বৈচিত্র্যময়, তার মধ্যেও গুসকরার চোংদার বাড়ির দশমী পুজো এক অনন্য অধ্যায়। এখানে দেবী সরস্বতী আরাধিতা হন তান্ত্রিক রূপ "নীল সরস্বতী" হিসেবে — জ্ঞান, মৃত্যু ও শক্তির এক অদ্ভুত সমন্বয়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার চোংদার পরিবারের শিকড় চট্টগ্রামে। প্রাচীন কালে তাঁরা মূলত "চট্টোপাধ্যায় পদবীর" ছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনে তাঁদেরকে গুসকরায় ডেকে আনা হয়, পরে বর্ধমান রাজার অনুগ্রহে তাঁরা জমিদারি ও ভূমি-সম্পত্তির অধিকার লাভ করেন। সেই সময় গুসকরাই ছিল বর্ধমান রাজ্য ও কোম্পানির এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। পরবর্তীতে এখানেই চোংদার পরিবার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে আসে। চোংদার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় শিক্ষা, মন্দির সংস্কার এবং দরিদ্রদের সাহায্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাঁদের ধর্মভীরু ও শিক্ষানুরাগী মনোভাব গুসকরার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
চোংদার পরিবারের বিশিষ্ট পুরুষ ছিলেন জমিদার চতুর্ভুজ চোংদার, যিনি প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষ ও সম্মানিত। তাঁর সময়েই সূচনা হয় "তান্ত্রিক নীল সরস্বতী পুজোর"।
নীল সরস্বতী: তন্ত্র ও জ্ঞানের মিলন
বেদপুরাণে সরস্বতী জ্ঞানের দেবী, কিন্তু তন্ত্রশাস্ত্রে তিনি রূপ নেন দশমহাবিদ্যার অন্তর্গত “নীল সরস্বতী” রূপে — ভয়ংকর অথচ মঙ্গলময় শক্তির প্রতীক। চোংদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় দেবী পূজিতা হন তান্ত্রিক রূপে। এবং সরস্বতী দেবীর মাথায় কোনো মুকুট থাকে না; এখানে হিন্দু শাস্ত্রীয় আচার নয়, শাক্ত মতে পাঠ ও উপাসনা হয়।
মৃত্যুর পর প্রথার রূপান্তর
জনশ্রুতি আছে — কোনো এক দশমীর দিন পুজো সমাপ্তির পর জমিদার চতুর্ভুজ চোংদার আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। একই দিনে প্রয়াত হন তাঁর পত্নী বিদ্যাধরী দেবী। পরিবার ও স্থানীয় মানুষ এই ঘটনাকে দেবীর লীলা বলে মনে করেন। সেই সময় থেকেই দশমীর দিনে শুরু হয় "শ্রাদ্ধ ও শান্তি অনুষ্ঠান"। দেবীর বিসর্জন হয় না; বরং আবাহন মন্ত্রে তাঁকে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শক্তির প্রতীক: কামান থেকে বন্দুক
অতীতে পুজোর সূচনা হতো কামান দেগে—যা ছিল দেবী শক্তির জাগরণের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কামানের পরিবর্তে আজও ঐতিহ্য রক্ষা করা হচ্ছে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পুজো সূচনার মাধ্যমে। এই প্রথা চোংদার পরিবারের জমিদারি ঐতিহ্য ও বংশের শক্তির প্রতীক হিসেবে আজও টিকে আছে।
গুসকরার জমিদার বাড়িতে তান্ত্রিক সরস্বতীর বিরল আরাধনা
দশমহাবিদ্যার মধ্যে নীল সরস্বতীর পূজা আজও বাংলার তান্ত্রিক পরম্পরায় বিরল। এখানে দেবী একাধারে "ভয়ংকর ও মঙ্গলময়, জ্ঞান ও মৃত্যু" — উভয়েরই প্রতীক। চোংদার বাড়ির দশমী পুজো তাই কেবল ধর্মীয় নয়, এটি এক তান্ত্রিক উত্তরাধিকার — যেখানে মৃত্যু ও জীবনের সীমানা মিলিয়ে যায় এক চেতনায়।
বর্তমানে চোংদার পরিবারের বংশধররা এই পুজোকে কেবল পারিবারিক নয়, বরং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা হিসেবে পালন করছেন। প্রতিবছর আশপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ আসেন এই বিরল প্রথা ও তান্ত্রিক আচার প্রত্যক্ষ করতে। গুসকরার চোংদার বাড়ির দশমী পুজো এক অনন্য ঐতিহ্য — যেখানে পুজো, শ্রাদ্ধ, ইতিহাস ও তন্ত্র একাকার হয়ে যায়। এটি শুধু একটি পারিবারিক পূজা নয়, বরং বাংলার জমিদারি সংস্কৃতি,
পারিবারিক বেদনা, ও তান্ত্রিক উত্তরাধিকার — এক জীবন্ত “ঐতিহ্যের দলিল”।
©® প্রতিবেদনে - তাপস কুমার পাল।
ছবি - রুদ্র নারায়ণ।
Comments